কেকেআর-এর জয়ের নেপথ্যে বরুণ চক্রবর্তীর অদম্য জেদ ও চোটের লড়াই
চোটকেও হার মানালেন বরুণ: কেকেআর-এর জয়ের নেপথ্যে অদম্য জেদ
আইপিএল ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে জয়টি ছিল অত্যন্ত জরুরি। আর এই জয়ের রাতে ইডেন গার্ডেন্সে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন বরুণ চক্রবর্তী। চোটের কারণে যার মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল, তিনি কিনা ব্যথার সঙ্গে লড়াই করেও বল করে গেলেন নিজের চার ওভার।
বরুণের লড়াই এবং ওয়াটসনের প্রশংসা
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কেকেআর-এর সহকারী কোচ শেন ওয়াটসন খোলাখুলি আলোচনা করলেন বরুণের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। ওয়াটসন জানান, বরুণ পায়ের গোড়ালিতে হেয়ারলাইন ফ্র্যাকচার বা হাড়ের ফাটল নিয়ে খেলছেন। তিনি বলেন, ‘বরুণ বর্তমানে যে ব্যথার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সহ্য করে মাঠে নামা সত্যিই সাহসের কাজ। ও দলের জন্য নিজের অবদান রাখতে কতটা মরিয়া, তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।’
ওয়াটসন আরও যোগ করেন, ‘মরশুমের শুরুর দিকে বরুণের পারফরম্যান্স তেমন ভালো ছিল না, কিন্তু সেখান থেকে যেভাবে ও ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। প্রতিটি ম্যাচেই ও প্রভাব ফেলছে। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে ওর মতো একজন দক্ষ এবং নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেটার আমাদের দলে আছে। ও চাইলে সহজেই বিশ্রাম নিতে পারত, কিন্তু ও দলের প্রয়োজনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে।’
মাঠের দুর্ভাগ্যজনক সংঘর্ষ: বরুণ ও রঘুবংশী
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে শুধুমাত্র বরুণের চোট নয়, বরং ফিল্ডিংয়ের সময় হওয়া একটি সংঘর্ষও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মুম্বাইয়ের ইনিংসের ১১তম ওভারে তিলক ভার্মার একটি শট ধরতে গিয়ে বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে ধাক্কা লাগে উইকেটরক্ষক অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর। এই সংঘর্ষের ফলে বরুণের হাত থেকে ক্যাচটি ফসকে যায় এবং অঙ্গকৃষ গুরুতর আহত হন।
ওয়াটসন জানান, ‘অঙ্গকৃষ মাঠের অনেক দূর থেকে বল ধরতে এসেছিল। সংঘর্ষের পর ওর ঘাড়ের ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং মাথাব্যথা শুরু হয়। ও একজন লড়াকু খেলোয়াড়, তাই ও শেষ পর্যন্ত খেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর শারীরিক অবস্থার কারণে ওকে আর ব্যাটিংয়ে নামানো সম্ভব হয়নি।’ কেকেআর শিবির আশা করছে, দিল্লির বিরুদ্ধে শেষ লিগ ম্যাচের আগে অঙ্গকৃষ সুস্থ হয়ে উঠবেন।
বিসিসিআই-এর পর্যবেক্ষণ এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি
বরুণের চোট নিয়ে বিসিসিআই-এর অবস্থানও স্পষ্ট। বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শেইকিয়া জানিয়েছেন, আইপিএল চলাকালীন খেলোয়াড়দের ফিটনেস দেখার মূল দায়িত্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর। তিনি বলেন, ‘আইপিএলের ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিরাই খেলোয়াড়দের চোট এবং ওয়ার্কলোড দেখাশোনা করে। আমাদের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের ফিজিওরা নজর রাখছেন, তবে আইপিএল চলাকালীন আমরা খুব বেশি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। যদি এটি ভারতীয় দলের বিষয় হতো, তবে আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি থাকত।’
প্লে-অফের স্বপ্নে বিভোর কেকেআর
বরুণ চক্রবর্তী এই মরশুমে কেকেআর-এর স্পিন বিভাগের অন্যতম স্তম্ভ। সুনীল নারাইনের সঙ্গে তার জুটি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য সবসময়ই মাথাব্যথার কারণ। হার না মানা মনোভাব নিয়ে বরুণ এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায়। ইডেন গার্ডেন্সে মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে এই জয় নাইটদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, রবিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে কেকেআর তাদের এই জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারে কি না।
বরুণের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি যে কোনো দলের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক। চোট বা অস্বস্তি—কোনো কিছুই তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। কেকেআর সমর্থকরা এখন প্রার্থনা করছেন, যেন তাদের দলের এই গুরুত্বপূর্ণ স্পিনার দ্রুত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং দলের জয়যাত্রায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
