টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনন্য রেকর্ড বিরাট কোহলির, ছুঁলেন অ্যালেক্স হেলসকে
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় বিরাট কোহলি
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন ভারতীয় ব্যাটিং সেনসেশন বিরাট কোহলি। রবিবার পাঞ্জাব কিংস (পিবিকেএস) এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) মধ্যকার ম্যাচে ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার গড়েছেন এক অনন্য মাইলফলক। দেবদূত পাডিক্কালের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৬ রানের জুটি গড়ার পথে তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের ২১০তম পঞ্চাশোর্ধ্ব পার্টনারশিপটি সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ব্যাটার অ্যালেক্স হেলসের বিশ্বরেকর্ড।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও শুরু
ম্যাচটিতে পাঞ্জাব কিংস টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। আরসিবির পক্ষ থেকে রজত পাটীদার না থাকায় নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন জিতেশ শর্মা। শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন বেঙ্গালুরু দলটি টানা পাঁচ ম্যাচে হারের বৃত্তে থাকায় প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই জয় তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। তবে ইনিংসের শুরুতে জ্যাকব বেথেল দ্রুত আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে বেঙ্গালুরু। হরপ্রীত ব্রার তাকে মাত্র ১১ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে পাঞ্জাবকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন।
বিরাট ও পাডিক্কালের পাল্টা আক্রমণ
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে কোহলি ও পাডিক্কাল উইকেটে থিতু হন। এরপর তারা পাঞ্জাবের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। মাঠের সব প্রান্তেই রান সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিত বিরাট কোহলি আজও তার চেনা ছন্দে ছিলেন। অন্যদিকে, পাডিক্কাল যুজবেন্দ্র চাহালকে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেন। পাডিক্কাল ২৫ বলে ৪৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হরপ্রীত ব্রারের দ্বিতীয় শিকার হয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। এরপর চাহালের ঘূর্ণিতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন কোহলি, যার সংগ্রহ ছিল ৫৮ রান।
শেষবেলায় ভেঙ্কটেশ ও ডেভিডের বিধ্বংসী ব্যাটিং
দলীয় বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার দায়িত্ব তুলে নেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং টিম ডেভিড। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা ভেঙ্কটেশ আইয়ার দারুণ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। তিনি তার নতুন দলের হয়ে প্রথম অর্ধশতক হাঁকান এবং শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার এবং চারটি বিশাল ছক্কা। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন টিম ডেভিড, যিনি ১২ বলে ২৮ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন। আরশদীপ সিংয়ের বলে শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ডেভিড দলের রানকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান।
முடி ফলাফল ও পরিসংখ্যান
নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু চার উইকেট হারিয়ে ২২২ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। পাঞ্জাবের বোলারদের মধ্যে হরপ্রীত ব্রার দুই উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার ছিলেন। এছাড়া আরশদীপ সিং এবং যুজবেন্দ্র চাহাল একটি করে উইকেট লাভ করেন। ২২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা পাঞ্জাবের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিরাট কোহলির এই রেকর্ড গড়ার দিনে ম্যাচটি যে বেশ উপভোগ্য হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
কোহলির এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, বয়সের ভার তাকে স্পর্শ করতে পারেনি বরং অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি নিজেকে আরও ধারালো করে তুলেছেন। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটারের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হওয়াটা তার অনুরাগী এবং আরসিবি সমর্থকদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে থাকল।
