Latest Cricket News

বিরাট কোহলির রেকর্ড সমান: ঈশ্বরের কৃপায় ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা অক্ষুণ্ণ

Karan Malhotra · · 1 min read
Share

ক্রিকেট মাঠে বিরাট কোহলি যেন এক চিরন্তন শিখা, যা বছরের পর বছর ধরে সমান উজ্জ্বলতায় জ্বলছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-এর এই অভিজ্ঞ ওপেনার সম্প্রতি আইপিএলে এক বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান এবং প্রাক্তন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (এমআই) অধিনায়ক রোহিত শর্মার সাথে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বাধিক ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জেতার রেকর্ড ভাগ করে নিয়েছেন। এই অবিস্মরণীয় অর্জনের পর, কোহলি তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা এবং অবিচল প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন।

গত ১৩ই মে রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিংহ আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)-এর বিরুদ্ধে আরসিবি-এর জয় ছিল এক রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। এই ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ছয় উইকেটে কেকেআরকে পরাজিত করে। এই জয়ের নেপথ্যে ছিলেন স্বয়ং বিরাট কোহলি, যিনি ৬০ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলে তাঁর দলকে ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে সাহায্য করেন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সুবাদে, আরসিবি নির্ধারিত ওভারের ৫ বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয়। কোহলির এই ইনিংসটি কেবল ম্যাচ জেতানোই ছিল না, এটি ছিল তাঁর খেলাধুলার প্রতি অদম্য আবেগ এবং একনিষ্ঠতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ক্রিকেটের প্রতি অবিচল ভালোবাসা ও আবেগ

ম্যাচ পরবর্তী উপস্থাপনায় কথা বলতে গিয়ে, ৩৭ বছর বয়সেও বিরাট কোহলির ক্রিকেটের প্রতি যে নিরন্তর আবেগ, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোহলি বলেন যে তিনি মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান, কারণ তাঁর খেলার জীবন একদিন শেষ হবেই। তিনি আরও যোগ করেন যে চাপের পরিস্থিতি এখনও তাঁকে রোমাঞ্চিত করে এবং সেরা পারফরম্যান্স দিতে উৎসাহিত করে। তাঁর কথায়, “আমি শুধু ব্যাটিং করতে ভালোবাসি, এত বছর পরেও। এটাই আমার মূল অনুভূতি। দেখুন, এই স্তরে খেলতে পারা কত বড় সম্মানের। বিশ্বের সেরাদের সাথে এখনও প্রতিযোগিতা করতে পারা কত বড় সম্মানের। আমি আমার সারা জীবন এটাই করে এসেছি।”

কোহলির এই কথাগুলো তাঁর ভেতরের খেলাধুলার প্রতি এক গভীর ভালোবাসার ইঙ্গিত দেয়। তিনি মনে করেন, “ক্রিকেট এমন কিছু যা আমি সত্যিই ভালোবাসি। এবং আমি আমার হৃদয় ও আত্মাকে মাঠে ঢেলে দিই, সে আমি ফিল্ডিং করি বা ব্যাটিং করি। কারণ, এটা একদিন শেষ হবে। এবং আমি মাঠে থাকার প্রতিটি দিনের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে চাই এবং শুধু নিজেকে উপভোগ করতে চাই, অনেক মজা করতে চাই এবং চাপের পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করি, এমন পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করি যেখানে আমি কিছুটা উত্তাপ অনুভব করছি।” এই ধরনের মানসিকতা একজন খেলোয়াড়কে কেবল দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সই দেয় না, বরং তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিয়ে যায়। কোহলি তাঁর প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দেন এবং সেই মুহূর্তগুলোকে পরিপূর্ণভাবে বাঁচার চেষ্টা করেন।

চাপের মুখে পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত বৃদ্ধি

প্রাক্তন আরসিবি অধিনায়ক আরও উল্লেখ করেন যে, চাপের পরিস্থিতি তাঁকে একজন ক্রিকেটার এবং একজন ব্যক্তি উভয় হিসেবেই বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। বিরাট কোহলি বলেন যে তিনি এখনও কঠিন মুহূর্তে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে উপভোগ করেন এবং তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার জুড়ে ব্যাটিংয়ের প্রতি তাঁর আবেগ অটুট থাকায় তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “এবং তারপর আমি নিজেকে চ্যালেঞ্জ করি এই বলে যে, তুমি জানো কী, শুধু এগিয়ে যাও। এবং যখন তুমি সীমা অতিক্রম করো, তখন তুমি একজন ভালো খেলোয়াড় হয়ে ওঠো। আর খেলাধুলা, যেমনটা তুমি জানো, একজন ব্যক্তি হিসেবেও তোমাকে অনেক কিছু শেখায়। তাই তুমি ধীরে ধীরে এবং নিশ্চিতভাবে তোমার চরিত্র তৈরি করো যখন তুমি চাপের মুখে পারফর্ম করতে থাকো।”

কোহলির এই দর্শন তাঁর সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। তিনি বিশ্বাস করেন যে চাপ কেবল পারফরম্যান্সের পরীক্ষা নয়, বরং এটি আত্ম-উন্নতির একটি সুযোগ। তিনি আরও বলেন, “এবং আমার জন্য, এত বছর এবং সংখ্যা এবং তুমি যা বলেছ তার পরেও, এটা এখনও খেলার প্রতি ভালোবাসা। আমি শুধু বলকে ব্যাটের মাঝখানে আঘাত করতে ভালোবাসি। এবং সেই আনন্দ এখনও আছে। এবং এটা সবই ঈশ্বরের কৃপা। এবং আমি খুবই কৃতজ্ঞ।” তাঁর এই বিনয় এবং কৃতজ্ঞতা তাঁর অসাধারণ প্রতিভার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্বকেও মহিমান্বিত করে তোলে। কোহলি তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব সর্বদা ঈশ্বর এবং তাঁর খেলার প্রতি ভালোবাসাকে দেন, যা তাঁকে একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

রেকর্ডের বিস্তারিত: প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ

এই ম্যাচে ২১তম ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার পেয়ে, বিরাট কোহলি আইপিএল ইতিহাসে ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে রোহিত শর্মার রেকর্ড (২১টি) স্পর্শ করেছেন। সামগ্রিক তালিকায়, এবি ডি ভিলিয়ার্স ২৫টি পুরস্কার নিয়ে শীর্ষে আছেন এবং ক্রিস গেইল ২২টি পুরস্কার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে এমএস ধোনি ১৮টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান কোহলির ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের প্রমাণ দেয়।

ব্যাটিং কৌশল: ঝুঁকিহীন ক্রিকেট

বিরাট কোহলি তাঁর ব্যাটিং কৌশল নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান যে তিনি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলেন এবং এর পরিবর্তে ফাঁক খুঁজে বের করা, স্ট্রাইক রোটেট করা এবং সঠিক ডেলিভারি বেছে নিয়ে আক্রমণ করার মাধ্যমে ‘পার্সেন্টেজ ক্রিকেট’ খেলার উপর মনোযোগ দেন। কোহলি আরও যোগ করেন যে তিনি আনন্দিত কারণ তিনি তাঁর স্বাভাবিক খেলার উপর ভরসা রেখেছিলেন এবং তাঁর শটগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করতে পেরেছিলেন।

তাঁর কৌশল ব্যাখ্যা করে কোহলি বলেন, “আমার ক্রিজে অবস্থান, আপনি জানেন, অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা না করে, শুধু আমার খেলাকে সমর্থন করা, অনেক চার মারা, ফাঁক খুঁজে বের করা, কোথায় ছয় মারতে চেয়েছিলাম সে সম্পর্কে স্পষ্ট থাকা, কোন দৈর্ঘ্য থেকে ছয় মারতে চেয়েছিলাম, এবং শুধু খেলায় টিকে থাকা, যেমন অনেক দুই রান নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী বাউন্ডারি মারা, দৈর্ঘ্য বেছে নেওয়া, ফাঁকগুলোতে আঘাত করা যা আমি মারতে জানি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তাই আমি এই কারণে খুশি ছিলাম যে আমি আমার খেলাকে সমর্থন করতে পেরেছিলাম এবং যে শটগুলো আমি সাধারণত আমার সেরা ক্ষমতা দিয়ে কার্যকর করি, সেগুলো সফলভাবে খেলতে পেরেছিলাম। এবং এটি আমাকে সবচেয়ে ধারাবাহিক, সবচেয়ে ঝুঁকিহীন ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করে, সর্বদা পরিস্থিতি এবং দলের চাহিদাকে আমার সামনে রেখে। তাই এই সমস্ত বিষয়গুলো আমার জন্য খুবই আনন্দদায়ক ছিল।” কোহলির এই সুচিন্তিত এবং হিসেবী ব্যাটিং পদ্ধতি তাঁকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অন্যতম করে তুলেছে। তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত রান সংখ্যা নিয়েই ভাবেন না, বরং সর্বদা দলের প্রয়োজনীয়তা এবং ম্যাচের পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেন।

বিরাট কোহলির এই মন্তব্যগুলো কেবল তাঁর ক্রিকেটীয় দক্ষতাকেই তুলে ধরে না, বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁর গভীরতা এবং তাঁর বিনয়ী মনোভাবকেও প্রকাশ করে। তাঁর খেলার প্রতি এই নিরন্তর ভালোবাসা এবং ‘ঈশ্বরের কৃপা’র প্রতি কৃতজ্ঞতা তাঁর কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Avatar photo
Karan Malhotra

Karan Malhotra covers IPL match reports, score summaries, and player performances with a focus on fast-paced cricket coverage.