Why Rohit Sharma Is A Complete No Go For Mumbai Indians’ Captaincy? – কেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে আর রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বের পথে হাঁটা উচিত নয়?
রোহিত শর্মার মুম্বাই অধ্যায়: একটি নতুন ভাবনার প্রয়োজন
রোহিত শর্মা নিঃসন্দেহে আইপিএলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক এবং সেই ব্যক্তি, যিনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে একটি চ্যাম্পিয়নশিপ মেশিনে রূপান্তরিত করেছিলেন। তবে ক্রিকেটীয় জগত খুব দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করার সময় আবেগপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য খুব একটা কার্যকর হয় না। হার্দিক পান্ডিয়া আর মুম্বাইয়ের অধিনায়ক থাকছেন না—এমন গুঞ্জনের পর ফের আলোচনা শুরু হয়েছে রোহিত শর্মার নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু বাস্তবসম্মত দিক থেকে দেখলে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মার ফেরা কেন অনুচিত, তার পেছনে রয়েছে গভীর কিছু কারণ।
১. টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে রোহিতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স
গত প্রায় এক দশকে আইপিএলে একজন ব্যাটার হিসেবে রোহিত শর্মা তার আসল সক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও, তার ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত একটিও ৬০০ রানের আইপিএল মৌসুম নেই। সর্বশেষ ২০১৩ সালে তিনি এক মৌসুমে ৫০০-এর বেশি রান করেছিলেন। বর্তমান যুগে যেখানে সফল দলগুলো টপ অর্ডারের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে, সেখানে রোহিতের ধারাবাহিকতার অভাব মুম্বাইয়ের জন্য একটি বড় সমস্যা।
আইপিএল ২০২৬-এর সেরা দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, বিরাট কোহলি, অভিষেক শর্মা, বৈভব সূর্যবংশী, সাই সুদর্শন এবং শুভমান গিলের মতো ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে রান করছেন। রোহিত শর্মা সেখানে পিছিয়ে আছেন। এছাড়া, তার স্ট্রাইক রেটও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গত পাঁচ বছরে মাত্র একবার তিনি ১৫০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত চাপ তার ব্যাটিং ফর্মকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।
২. দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। রোহিত শর্মার হাত থেকে নেতৃত্ব হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে—তারা একটি নতুন এবং তরুণ নেতৃত্বের কোর গড়ে তুলতে চায়। রোহিত শর্মার বয়স এখন ৩৯ এবং আগামী বছর তিনি ৪০-এ পা দেবেন। ২০২৮ সালের মেগা নিলামের কথা মাথায় রেখে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের উচিত দীর্ঘমেয়াদী কাউকে অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তোলা।
বারবার পুরনো অধিনায়কের কাছে ফিরে যাওয়ার অর্থ হলো ট্রানজিশন বা উত্তরণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঐতিহ্যের মূল ভিত্তিই ছিল সময়ের আগেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করা। রোহিত শর্মা দলের কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন, কিন্তু তাকে পুনরায় অধিনায়ক করা কৌশলগত সিদ্ধান্তের চেয়ে আবেগের বহিঃপ্রকাশই বেশি হবে।
৩. অধিনায়কের হিসেবে সাম্প্রতিক রেকর্ড এবং ট্রফি খরা
রোহিত শর্মার পাঁচটি আইপিএল ট্রফি জয়ের রেকর্ড অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এটাও মনে রাখা জরুরি যে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বর্তমান ট্রফিশূন্য অবস্থার সূচনা কিন্তু হয়েছিল তার অধিনায়কত্বেই। ২০২০ সালে পঞ্চম ট্রফি জয়ের পর ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা তিন মৌসুম মুম্বাই কোনো শিরোপা জিততে পারেনি।
এই ট্রফি খরা এখন ছয় বছরে দাঁড়িয়েছে। যদিও হার্দিক পান্ডিয়ার অধীনেও খুব বড় সাফল্য আসেনি, তবে মুম্বাইয়ের এই অধঃপতন শুরু হয়েছিল রোহিতের শেষ কয়েক বছরের অধিনায়কত্ব থেকেই। লাসিথ মালিঙ্গা এবং কাইরন পোলার্ডের মতো কিংবদন্তিরা দল ছাড়ার পর থেকেই মুম্বাইয়ের পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েছিল। সেই কঠিন ট্রানজিশন পিরিয়ডে অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মা খুব একটা সফল ছিলেন না। তাই এখন পেছনে ফিরে তাকানোর চেয়ে সামনে তাকিয়ে নতুন নেতৃত্ব খুঁজে নেওয়াই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত কাজ হবে।
উপসংহারে বলা যায়, রোহিত শর্মা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের আইকনিক ব্যক্তিত্ব, কিন্তু দলের সাফল্যের স্বার্থে এখন নতুন নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
