ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ড্র করে পয়েন্ট ভাগ করে নিল ওরচেস্টারশায়ার
রথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে লড়াই ও ড্র
রথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ ড্র করেছে ওরচেস্টারশায়ার। ম্যাচের শেষভাগে অধিনায়ক ব্রেট ডি’অলিভেরা এবং অলরাউন্ডার ম্যাথু ওয়েটের অদম্য ব্যাটিং ল্যাঙ্কাশায়ারের জয়রথ থামিয়ে দেয়। মূলত এই জুটির অবিচ্ছিন্ন ৯৭ রানের পার্টনারশিপই সফরকারীদের পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট
ম্যাচের এক পর্যায়ে ওরচেস্টারশায়ারের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১১৪ রান। তখন জয়ের জন্য ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রয়োজন ছিল দ্রুত কিছু উইকেট। কিন্তু ডি’অলিভেরা এবং ওয়েট অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দীর্ঘ ৪৪ ওভারের বেশি সময় টিকে থেকে ম্যাচটিকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যান। বিশেষ করে জেমস অ্যান্ডারসনের মতো অভিজ্ঞ বোলারের বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াই ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। অ্যান্ডারসন ১৫ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও তা তার বোলিংয়ের যথার্থ প্রতিফলন ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২০৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুই পক্ষ ড্র মেনে নেয়। ডি’অলিভেরা ৪৬ এবং ওয়েট ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন। এই ম্যাচের ফলে ল্যাঙ্কাশায়ার ১২ পয়েন্ট এবং ওরচেস্টারশায়ার ১১ পয়েন্ট অর্জন করে।
বৃষ্টি ও ল্যাঙ্কাশায়ারের পরিকল্পনা
সকালের বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে আধ ঘণ্টা দেরি হয়। ল্যাঙ্কাশায়ার তাদের আগের দিনের সংগৃহীত ৮ উইকেটে ২৮১ রানেই ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্দেশ্য ছিল ওরচেস্টারশায়ারের ওপর দ্রুত চাপ সৃষ্টি করা। শুরুতে ড্যান লেটেগান এবং জেক লিবি বেশ সাবলীলভাবে ব্যাট করে ৪৭ রান যোগ করেন। কিন্তু ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক বোলিংয়ে এসে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। লিবি এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রডারিক শূন্য রানে আউট হলে সফরকারীরা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়।
সংকট ও উত্তরণ
দুপুরের খাবারের বিরতির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। কাশিম আলি এবং অ্যাডাম হোস দ্রুত আউট হয়ে গেলে ৯০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ওরচেস্টারশায়ার। এর কিছুক্ষণ পর লেটেগান ৪৮ রান করে আউট হলে স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১১৫ রান। তখন ল্যাঙ্কাশায়ারের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপরই দৃশ্যপটে আগমন ঘটে ডি’অলিভেরা এবং ওয়েটের। তারা উইকেটে থিতু হয়ে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করেন। চা বিরতির সময় স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৫৯ রান, যা ম্যাচ ড্র হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে অনেকটা সময় নষ্ট না হলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ড্র দুদলকেই স্বস্তি দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
- ওরচেস্টারশায়ার: ২৭০ (ওয়েট ৭৭, লেটেগান ৫৩, ব্যাল্ডারসন ৩-৫২) ও ২১১/৫ (লেটেগান ৪৮, ওয়েট ৪৭*, ডি’অলিভেরা ৪৬*)।
- ল্যাঙ্কাশায়ার: ২৮১/৮ ডিক্লেয়ার্ড (জেনিংস ৬৯, কফলিন ৬১, সোয়ানপোল ৩-৮১)।
পুরো ম্যাচে ওরচেস্টারশায়ারের দৃঢ়তা এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলিং আক্রমণের লড়াই ছিল উপভোগ্য। শেষ পর্যন্ত খেলা ড্র হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
